প্রকল্পের ফলাফল

প্রস্তাবিত সরকারি নেটওয়ার্ক প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য সুবিধাগুলি নিম্নোক্ত:

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নেটওয়ার্ক:

১ম  ২য় পর্যায় প্রকল্পটি ছিল শহর কেন্দ্রিক, ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায়ের প্রকল্পটি একটি বর্ধিত প্রকল্প এবং এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সকল স্তরের জনগণ ডিজিটাল বাংলাদেশের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে। ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায়ের নেটওয়ার্কটির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল উচ্চ গতির অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে ইউনিয়ন স্তরে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে।

প্রশাসন  ব্যবস্থাপনা সহজতর করা:

নেটওয়ার্কটি সহজেই নজরদারি,পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিণ করা হবে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেম (এনএমএস) এর মাধ্যমে। 

উচ্চ দক্ষতা এবং সমন্নয়:
বৃহৎ পরিসরে নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্তি সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং ভ্রমণের খরচ কমিয়ে দেবে।

প্রকল্পের কাজসমূহঃ

১। নেটওয়ার্কের সামর্থ উন্নত করাঃ

নাগরিকদের আরও ভাল সেবা প্রদানের জন্য, নেটওয়ার্ক-এর পাশাপাশি ব্যান্ডউইথকেও উন্নত করা হবে।

উপজেলা  জেলা পর্যায়ের নেটওয়ার্কে শক্তিশালী করার লক্ষে ডেন্স্ ওয়েভলেন্থ ডিভিশন মাল্টিপ্লেক্সিং (ডিডব্লিউডিএম) সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে উচ্চতর ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ১০ জিবিপিএস ক্ষমতার নেটওয়ার্ক এবং জেলা পর্যায়ে ১০০ জিবিপিএস ক্ষমতাসম্পন্ন নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা হবে।

২। ইউনিয়ন পর্যায়ে সংযুক্তি প্রসারিত করাঃ

উপজেলা থেকে ইউনিয়নগুলিতে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করে আইসিটি পরিসেবার দ্বারা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে  

কেন্দ্র নির্মান করা যা নেটওয়ার্কিং হাব হিসাবে সরকারি সংস্থা, টেলিকম অপারেটর, স্থানীয় আইএসপি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান  নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রধান করা হবে। 

নির্বাচন মানদণ্ড:

বিটিসিএল প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নগুলি নির্বাচিত হবে না।

ভৌগলিকভাবে অপেক্ষাকৃত ভাল ইউনিয়নগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

৩। পুলিশ অফিস সংযুক্তি:

বাংলাদেশ পুলিশ এর জন্য ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা হবে, সারা দেশে বাংলাদেশ পুলিশ অফিসের মধ্যে তথ্য যোগাযোগ নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ পুলিশ এর জন্য অত্যন্ত নিরাপদ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য কারণ সারা দেশের পুলিশ অফিসগুলিকে যেমন পাসপোর্ট এর জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, এফআইআর ইত্যাদির মত বিভিন্ন আবেদন সরবরাহ প্রয়োজন হয় যা বাংলাদেশ ঢাকা পুলিশ ডেটা সেন্টারে সরবরাহ করা হয়, যা নাগরিক সেবা উন্নত করতে পারে। 

বাংলাদেশ পুলিশের মতে, বাংলাদেশ জুড়ে অনেক অফিস আছে, যা এখনো জাতীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয় নাই। জাতীয় নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশ পুলিশ নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করা প্রয়োজন। প্রকল্পটির অধীনে, এই অবস্থানগুলো বিটিসিএল/ এনটিটিএন/অন্য যে কোন আইএসপি লিমিটেড এর লাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ পুলিশ এর জন্য পৃথক ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) তৈরি করা হবে, যা বর্তমানে সংযুক্ত সাইটগুলি্কেও অন্তর্ভুক্ত করবে। বাংলাদেশ পুলিশের জন্য নেটওয়ার্কটি বাংলাদেশ পুলিশ দ্বারা শাসিত, পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হবে।

৪। নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:

সমগ্র নেটওয়ার্কটি জাতীয় নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার থেকে নিরীক্ষণ  পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ইনস্টল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার লাইসেন্সগুলি সংগ্রহ করা হবে।

৫। বিদেশী সফরঃ

আইসিটি ডিভিশন, বিসিসি, ইআরডি, পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিদেশী সফর বিশেষ করে চীনে আয়োজন করা হবে যাতে উন্নত -গভার্নমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন এবং আইসিটি অবকাঠামোর উপর ব্যবহারিক আইসিটি জ্ঞান অর্জন করতে পারে। 

৬। স্থানীয় প্রশিক্ষণ:

এই ধরনের একটি বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা  বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের/প্রকৌশলী/প্রযুক্তিবিদদের জন্য স্থানীয় প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।